Description
নির্বাসন-সাদাত হোসাইন
উপন্যাসের পটভূমি ও কাহিনী সংক্ষেপ
উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে গ্রামবাংলার চরাঞ্চল এবং সেখানকার মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে।
-
মূল চরিত্র: গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘জোহরা’। জোহরা রহস্যময়ী এক নারী চরিত্র—কখনও সে নদীর মতো শান্ত, আবার কখনও উত্তাল সমুদ্রের মতো প্রলয়ঙ্করী। তার দাদা ‘তোরাব আলী লস্কর’ লস্কর চরের ডাকাত দলের প্রধান।
-
গল্পের প্রবাহ: তোরাব আলী লস্কর তার নাতনি জোহরাকে নিয়ে ভিন্ন এক স্বপ্ন দেখতেন, চেয়েছিলেন তাকে এই অপরাধ জগত থেকে দূরে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে। কিন্তু নিয়তি ও পরিস্থিতির ফেরে গল্পটি ভিন্ন মোড় নেয়। এতে চরাঞ্চলের রুক্ষ জীবনের পাশাপাশি মানুষের মনের সূক্ষ্ম আবেগ, প্রেম, বিশ্বাস এবং বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
সাদাত হোসাইনের লেখার মূল শক্তি হলো মানুষের মনের গভীর আবেগ বা ‘মায়া’কে ছুঁয়ে যাওয়া। এই উপন্যাসেও তিনি দেখিয়েছেন:
-
মায়া ও সম্পর্কের টানাপোড়েন: কঠিন স্বভাবের মানুষের ভেতরেও যে গভীর ভালোবাসা বা মায়া লুকিয়ে থাকে, তা এই উপন্যাসে সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে।
-
মানুষের দ্বৈত সত্তা: জোহরা চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের স্বভাবের পরস্পরবিরোধী দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
-
অস্তিত্বের সংকট: জীবনের প্রয়োজনে মানুষ কীভাবে নিজের শিকড় বা আপনজন থেকে ‘নির্বাসিত’ হয়—তা দৈহিক বা মানসিক যেভাবেই হোক—সেটিই এই গল্পের দর্শন।
-
আপনি যদি গ্রামবাংলার প্রেক্ষাপটে রচিত জীবনঘনিষ্ঠ উপন্যাস পছন্দ করেন।
-
যদি এমন গল্প ভালোবাসেন যেখানে রহস্য এবং আবেগ সমান্তরালভাবে চলে।
-
সাদাত হোসাইনের সিগনেচার স্টাইল, অর্থাৎ সহজ ও সাবলীল ভাষায় গভীর সব অনুভূতির বর্ণনা যদি আপনার ভালো লাগে।
লেখক পরিচিতি
-
জন্ম: ২১ মে ১৯৮৪ সালে, মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায়।
-
শিক্ষা: তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞান (Anthropology) বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।
সাদাত হোসাইনের সাহিত্য জগতে প্রবেশ কিছুটা ভিন্নভাবে। তিনি প্রথমে একজন ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। ছবির পেছনের গল্প লিখতে লিখতেই তিনি একসময় পুরোদস্তুর লেখক হয়ে ওঠেন।
-
২০১৩ সালে তাঁর প্রথম বই ‘গল্পছবি’ প্রকাশিত হয়, যা ছিল আলোকচিত্র ও গল্পের সংকলন।
-
২০১৫ সালে প্রকাশিত ‘আরশিনগর’ উপন্যাসটি তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর একুশে বইমেলায় তাঁর বই বেস্টসেলার তালিকার শীর্ষে থাকে।
তিনি উপন্যাস, গল্প এবং কবিতা—সব মাধ্যমেই স্বাচ্ছন্দ্য। তাঁর বিখ্যাত কিছু বইয়ের মধ্যে রয়েছে:
-
উপন্যাস: আরশিনগর, অন্দরমহল, মানবজনম, নিঃসঙ্গ নক্ষত্র, নির্বাসন, মরণোত্তম, ছদ্মবেশ, মেঘেদের দিন।
-
কবিতা: কাজলা চোখের মেয়ে, তোমাকে দেখার অসুখ, যেতে চাইলে যেও।
Reviews
There are no reviews yet.